1. neayzmorshed2020@gmail.com : samikkhon :
August 14, 2022, 7:28 am

চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে  বেতন ছাড়া চাকরি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক:
  • প্রকাশের সময় : Wednesday, July 13, 2022
  • 75 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত।

টাকা ছাড়াই চাকরির সুযোগ। যোগাযোগ করতে পারেন অল্পশিক্ষিত দরিদ্র, নিম্নবিত্তের বেকারেরা—অনলাইনে চাকরির এমন চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল একটি চক্র।

 

৮ ঘণ্টার কথা বলে ১২ ঘণ্টার নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করিয়েও বেতন দিত না তারা। আর প্রতিবাদ করলে নেমে আসত মানসিক নির্যাতন। নারী নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার, মানসিক নির্যাতন করা হতো। রয়েছে জোর করে আটকে রেখে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগও।

 

এভাবে কাজ করিয়ে ভুক্তভোগীদের অর্থ আত্মসাৎ ও নারীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগে রাজধানীর খিলক্ষেতে রিয়েল ফোর্স সিকিউরিটি অ্যান্ড লজিস্টিক সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড নামের এক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমির হামজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৬ জন নারী ও ১০ জন পুরুষ ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

আজ মঙ্গলবার বিকেল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১–এর অধিনায়ক (সিও) লেফট্যানেন্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন। তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার নামে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে আসছিল। আকর্ষণীয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই চক্রের সদস্যরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

 

আবদুল্লাহ আল মোমেন বলেন, চক্রের সদস্যরা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করে এবং সেই অনুযায়ী মাসিক টাকা সংগ্রহ করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালে কোম্পানিটি লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়। তারা এসিআই লজিস্টিকের স্বপ্ন শোরুমে নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের একটি বড় চুক্তিও পায়।

এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল্লাহ আল মোমেন বলেন, চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ছিল সাড়ে ১৪ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হবে, কিন্তু স্বপ্নের সঙ্গে চুক্তিতে লেখা সাড়ে ১০ হাজার টাকা। সেখানে ৮ ঘণ্টা নয়, ১২ ঘণ্টা ডিউটি করতে বাধ্য করা হয়। এ জন্য অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হতো না। কৌশল হিসেবে কোনো ধরনের নিয়োগপত্র ভুক্তভোগীদের হাতে দেওয়া হতো না।

 

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, প্রতারকেরা মূলত সমাজের বেকার, অল্পশিক্ষিত, দরিদ্র পরিবারগুলোকে চাকরি দিত। তাঁদের কাজ করিয়ে বেতন না দিয়ে নিজেরা ওই টাকা আত্মসাৎ করত।

 

জিজ্ঞাসাবাদে আমির হামজার দেওয়া তথ্যের বরাতে র‌্যাব জানায়, তিনি ১৯৯৮ সালে ঢাকায় একটি সিকিউরিটি এজেন্সিতে চাকরি শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত সিকিউরিটি কোম্পানিতে বিভিন্ন পদে চাকরি করেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০১৭ সালের শুরুতে রিয়েল ফোর্স নামে সিকিউরিটি কোম্পানি শুরু করেন। এতে তাঁকে আর্থিকভাবে সাহায্য করে চট্টগ্রামের আলীকদমের ব্যবসায়ী ইউনুস মিয়া। তারা প্রথমে মূলত বিভিন্ন ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ করে এবং সেই অনুযায়ী টাকা সংগ্রহ করেন। ২০২০ সালে কোম্পানিটি লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয় এবং এসিআই লজিস্টিকের স্বপ্ন শোরুমে সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগের একটি বড় চুক্তি সম্পাদন করে। তাদের ‘রিয়েল ফোর্স’–এর মূল অফিস বারিধারা ডিওএইচএসে। এ ছাড়া রাজধানীর খিলক্ষেত ও চট্টগ্রামের হালিশহরে তাদের দুটি শাখা অফিস রয়েছে।

 

শুরুতেই জমা নেওয়া হতো ৪ হাজার টাকা

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, এই চক্রের সদস্যরা মূলত দালালের মাধ্যমে অনলাইনে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে লোক সংগ্রহ করতেন। প্রথমে চাকরিপ্রত্যাশীরা দালালের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের চার হাজার টাকা জমা দিতে হয়। পরবর্তী সময়ে দালালেরা আমির হামজার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর বারিধারা অফিসে চাকরিপ্রত্যাশীদের রিপোর্ট করতে বলেন। এ পর্যায়ে ফরম পূরণ এবং ইউনিফর্ম বাবদ আরও চার হাজার টাকা নেওয়া হতো।

 

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 samikkhon.com
samikkhon :
x