1. neayzmorshed2020@gmail.com : samikkhon :
August 14, 2022, 6:23 am

গরুর গায়ের রঙিন গয়নার হাট!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশের সময় : Friday, July 8, 2022
  • 76 বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

রাজধানীর গাবতলীর কোরবানির পশুর হাটে পশুকে সাজসজ্জার উপকরণ বিক্রি করছিলেন হাসান নামের এক ব্যক্তি। পশু কিনে যাঁরা ফিরছিলেন, তাঁদের ১০০ জনের অন্তত ৩০ জন গরু বা খাশির মুখে, গলা, কুঁজে, পিঠে ও পায়ের সাজসজ্জার জন্য এসব উপকরণ কিনছিলেন।

 

পশুর সাজ যেন কোরবানির ঈদের আনন্দকে একটুখানি বাড়িয়ে দেয়। গরুদের মধ্যে সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা না থাকলেও, মালিকদের মধ্যে আছে। প্রত্যেকেই চান, নিজের কেনা কোরবানির পশুটিকে আকর্ষণীয় লাগুক। গাবতলীর পশুর হাটে কথা হয় মিরপুর ২ নম্বরের বাসিন্দা সবুজের সঙ্গে। গতকাল বৃহস্পতিবার ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকায় গরু কিনেছেন তাঁরা। আজ গরুকে সাজানোর উপকরণ কিনতে এসেছেন। দামদর দেখে কিঞ্চিৎ হতাশ মনে হলো তাঁকে। কিশোর বিক্রেতাকে তিনি বলেন, ‘পুরো সেট অনলাইনে ৩ হাজার। তোর কাছে এত বেশি ক্যান?’

 

পশুর হাটসংলগ্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিক্রি হচ্ছে পশুকে সাজানোর মালা। আবার মুদি দোকান, চায়ের দোকান ও হাটের কাছাকাছি হার্ডওয়্যারের দোকানে গেলেও পাওয়া যাচ্ছে পশু সাজানোর এসব উপকরণ। কাগজের মালার দাম ৩০-৫০ টাকা, জরির মালা ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া কাপড়ের মালা ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা, মাঝারি ঘুঙুরের দড়ির মালা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, ছোট ছোট ঘণ্টা লাগানো মালার দাম ৩ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা। মুখ, মাথা, গলা ও পায়ের সেট পাওয়া যাচ্ছে আড়াই থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। এসবের মধ্যে দুই পায়ে ছোট ছোট ২০টি নূপুরের এক সেট ১ হাজার টাকায় আলাদা করেও বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় কোরবানির পশুর সাজসজ্জার এসব উপকরণ তৈরি হয়। রাজধানীর মিরপুর ১১, মোহাম্মদপুর ও পুরান ঢাকা থেকে পাইকারি দরে এসব কিনে আনেন খুচরা বিক্রেতারা।

 

মিরপুরের বাসিন্দা সোলায়মান জানালেন, গরুকে সাজিয়ে রাখলে সেটার প্রতি আরও বেশি মায়া জন্মায়, তাতে কোরবানিটাও নাকি পাকা হয়।

 

কোরবানির পশুকে সাজানোর জন্য শুধু গয়নাই নয়, শাসন করার জন্য লাঠিও বিক্রি হচ্ছে হাটে। সেসবের দাম বিক্রেতারা হাঁকছেন ৫০ টাকা। তবে দরদাম করলে ৩০-৪০ টাকায়ও কেনা যাচ্ছে। গাবতলী পশুর হাটের হাসিল ঘরের উল্টো পাশে কথা হয় শাহজাহান নামের এক বিক্রেতার সঙ্গে। তাঁর কাছে ছিল ৫০, ৮০, ১০০, ১২০ ও ২০০ টাকার বিভিন্ন রকম দড়ি, ৫০-২৫০ টাকার মালা।

 

মো. শাহজাহান বলেন, ‘আমার এখানে অন্য দোকান। কোরবানির সময় এগুলো এনে রাখতেই হয়। এগুলো থেকে অনেক টাকা লাভ হয়, সেটা ঠিক নয়। রাখি চাহিদার কারণে। মুনাফা কেমন, জানতে তিনি বলেন, ‘মাল আনতাছি আর বেচতাসি। অখনো লাভের হিসাব করবার পারি নাই।’ তবে পাশ থেকে একজন ক্রেতা বললেন, ‘যার কাছ থেকে যা নিয়া পারে। বহুত লাভ।’

আজ গাবতলী পশুর হাট মানুষে সয়লাব। হাটের বাইরে বাড়িমুখী মানুষ ও যানবাহনের চাপ। হাটের মাইকে অনবরত নানা রকম ঘোষণা। ক্রেতা, বিক্রেতা, ব্যাপারী, সর্বপরি হাটুরেদের জন্য যেন ‘নোটিফিকেশন’।

 

মাইকে হঠাৎ শোনা যায়, ‘একজন ক্রেতার মনোযোগ আকর্ষণ করছি। ৫ হাজার টাকা বায়না করে আপনি চলে গেছেন নামাজ পড়তে। বাকি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা দিয়ে গরুটা নিয়ে যান। মাত্র ৫ হাজার টাকার জন্য গরুর মালিক কতক্ষণ আপনার জন্য দাঁড়ায়ে থাকবে!’

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 samikkhon.com
samikkhon :
x